আমার সাথী ব্লগার মোঃ আবুল বাসার ভাই কে অশেষ ধন্যবাদ । তাঁর তেসরা মের পোস্টে অজস্র বাংলা বইএর ই-লিপি পী ডী এফ ফর্ ম্যাট তুলে ধরার জন্য । আমাদের মতন প্রবাসী আগ্রহী, অনুরাগী বাঙ্গালী পাঠক/পাঠিকারা যারা বাড়ীর নিকট ভালো বই এ ঠাসা পাঠাগারের অভাবে বাংলা বই পড়তে পারে না তাদের জন্য আবুল বাসার ভাইয়ের এই পোস্ট এক আসামান্য তোহ্ ফা, এক অযাচিত উপকার ।
আমি অন-লাইন বই পড়ার ভক্ত নই । অভ্যেস ও নেই । তাই আবুল বাসার ভাইয়ের দেওয়া পী ডী এফ লিঙ্কের বিশাল তালিকা থেকে সবচেয়ে কম পাতার বইটি বেছে নিলাম – হুমায়ূন আহ্ মেদের “অচিনপুর”।
হুমায়ূন আহ্ মেদ আমি আগে কখোনো পড়িনি – পড়ার সুযোগ ও ছিল বিরল (আগেই বলেছি)। তাই একজন নতুন (আমার কাছে) লেখকের আনকোরা নতুন লেখা তাও না কিনে পড়া – এটা একেবারে ফাউ পাওয়া । এর জন্য আবুল ভাইকে আবার আরেকবার জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ ।
“অচিনপুর” হুমায়ূন সাহেবের আত্মজীবনীমূলক লেখা । তাঁর ছোটোবেলা কাটে নানা-নানীজানের একান্নবর্তী পরিবারে যেখান হাসনা (লেখকের মা ) একদিন তার তিন মাসের শিশু ছেলে এবং মেয়ে লিলির হাথ ধরে ফিরে এসেছিলেন। যৌথ পরিবার হওয়া সত্তেও সবার সঙ্গে সমান ভাবে মেশার বা সবার সাথে সম পরিমাপে স্নেহ মমত্ত্বের বন্ধনে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ লেখক পাননি । ছোটো রঞ্জুর (লেখক) রাশভারী নানা-জানের সঙ্গে ছিল দৌরাত্মের পরিবর্তে দুরত্মের সম্বন্ধ । বড় নানী-জানকে (আপন দিদিমা) কখোনোই পাননি তিনি কাছে – উনি থাকতেন সংসারের মোহ গন্ডির বাহিরে । ছোটো নানী-জানের সাথে আত্নিয়তা ছিল বটে তবে আন্তরিকতা কতখানি তার স্পষ্ট আভাস পাওয়া যায় না। তবে নবু মামার সঙ্গে বড় হয়ে ওঠা ও বন্ধুত্ত্ব, লিলির পরগাছা জীবনের প্রতি তিক্ততা, সরিফা খালার অদ্ভুত উদাসীনতা আর স্বাধীনচেতা মনোভাব, বাদশা মামার ভবঘুরে জীবন, লাল ভাবীর/মামীর জীবনের শুন্যতা ও পরকীয়া প্রেম সবই সেকালের সামাজিক ব্যবস্থার ও চিন্তাধারার এক অনবগুন্ঠিত চিত্র । সব কিছু থেকেও না থাকা , পেয়েও না পাওয়ার শ্বাস রুদ্ধ করা বিষাদ অচিনপুরের সরফরাজ খাঁর (নানা-জান) বাড়ীর আনাচে-কানাচে, ইঁট পাঁজরে, দেয়ালে সর্বত্র বিদ্দমান – দালানে, দেউড়ে, সোপানে, কক্ষে, তোরণে, আকাশে-বাতাসে অপূর্ণতার দুঃখ সর্পিল গতিতে যেন ভাসমান । রঞ্জুর কিয়ৎ ক্ষণের আনন্দ ও তাই বেদনার সুর ছড়িয়ে যায়।
কাহিনীর প্রবাহ ছোট রঞ্জুর দৄষ্টি ও অনুভূতি অবলম্বন করে – যতটুকু রঞ্জুর চোখে দেখা, যা রঞ্জুর মনে দাগ কেটেছে বা রঞ্জুর বাল্য বুদ্ধিতে বোধগম্য হয়েছে – সেই সব স্মৃতির এক জোট । তাই অনেক মুহূর্ত ও ঘটনা অবিস্তারিত ও বেশ কিছুটা রহস্যাচ্ছন্ন । কিন্তু এই রহস্যই, এই ‘অবলা বাণিই’ পাঠক/পাঠিকাদের চুম্বকের মতন আকর্ষণ করবে ও গল্পের টানে টেনে নিয়ে যাবে। সময়ের স্রোতে মানবীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন ও নানা পরিবর্তন, ভাবনুবেগের উথাল-পাথাল, কাছের মানুষের দূরে সরে যাওয়া কিংবা দুরত্বর নৈকট্যে পরিনত হওয়া, হুমায়ূন সাহেবের “অচিনপুর” , জীবনের বিরাট নাট্যমঞ্চের একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি।
পরিশেষে বলি হুমায়ূন আহ্ মেদ আরো পড়ার ও জানার ইচ্ছা রইল ।
(আমার এই প্রথম বাংলা বইএর বাংলা ভাষায় সমালোচনা। পাঠক/পাঠিকাদের যদি লেখায় কোনো ভুল ত্রুটি দৄষ্ট হয় তাহলে টিপ্পণীর (কমন্টের) মাধ্যমে সংশোধন করিয়ে দেবেন, এই আর্জি রইল।)









হুমায়ুন আহমেদের প্রায় ১৫৪ টা বইয়ের pdf আমার কাছে আছে…..প্রায় সব পড়েছি
হুমায়ুনের সব লেখা ভাল লাগবে না… তাই হুমায়ুন পড়লে আমি আপনাকে বলব এগুলো পড়ুন
১. নন্দিত নরকে
২. শঙ্খনীল কারাগার
৩. মধ্যান্ন (১ ও ২ )
৪. জোছনা ও জননীর গল্প
৫. বাদশা নামদার
৬. লীলাবতী
৭. মাতাল হাওয়া
৮. ময়ূরাক্ষী
হুমায়ুনের প্রায় সব লেখাই নেটে পাওয়া যায়…..পড়তে থাকুন …..আর ভাল থাকুন
LikeLike
উত্তম পুরুষে লেখা ”অচিনপুর” কিন্ত আত্মজীবনীমূলক লেখা নয়…তার আত্মজীবনীমূলক বইয়ের মধ্যে আছে ১.বলপয়েন্ট ২. কাঠপেন্সিল ৩. রংপেন্সিল
হুমায়ুন সৃষ্ট দুটো জনপ্রিয় চরিত্র হচ্ছে হিমু ও মিসির আলী…ময়ূরাক্ষী হিমুকে নিয়ে প্রথম বই
বাদশা নামদার ভারতবর্ষের মোঘল সম্রাট হুমাযুনকে নিয়ে লেখা…আমার খুব প্রিয়
নন্দিত নরকে ও শঙ্খনীল কারাগার তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে লেখা বই….সেরা দুটো বই
মধ্যান্ন (১ ও ২ )…গল্পের শুরু ১৯০৫ সাল….পড়বেন আর চমত্কৃত হবেন…আমার অনেক বন্ধুর সবচেয়ে প্রিয় বই
জোছনা ও জননীর গল্প…..বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা তার সেরা উপন্যাস
মাতাল হাওয়া আর লীলাবতী আসলেই আমাকে টানে
হুমায়ুনের অসংখ্য commercial বইয়ের মাঝে উপরের তালিকা ধরে পড়তে থাকুন
আমি নিচ্চিত আপনি হুমায়ুনের প্রেমে পরে যাবেন
LikeLike
আমার ভুল ভাঙ্গানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। তার সঙ্গে লেখক পরিচিতি ও বই এর তালিকার জন্যেও। অচিনপুর পড়ে আত্মজীবনীমূলক মনে হয়েছিল । লেখার ধরণটাও আকৃষ্ট করে। অনেকদিন পর বাংলা বই পড়ে ভালো লাগল।
আপনার কবিতা পড়ে বাংলায় কবিতা লিখতে অনুপ্রাণিত হলাম। মাঝে মাঝে আমার কবিতার ব্লগে (My Poetry) বা পোয়েট ফ্রীক ডট কমে লিখি। সময় পেলে দেখবেন।
আশা করি ভালো আছেন।
LikeLike
লেখক হুমায়ুন আর বেচেঁ নেই
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-07-19/news/275148
উপরের লিঙ্কটা দেখতে পারেন
………………………….
অনেকদিন যাবত আপনার লেখা পাই না
আশা করি নিয়মিত লিখবেন
LikeLike
আপনার কবিতার ব্লগটি লিঙ্ক হিসেবে দিলে ভাল হয়
http://mindspeak-vanderloost.blogspot.com/ এটা কি?
LikeLike
Yes!
LikeLike
Thanks for the link shobuj. I’ll look it up!
LikeLike
আর কি কি বই পড়লেন? বই পড়া আজ কাল হচ্ছে না। সময় পাই না…।
LikeLike
আমার ও ঠীক এক ই অবস্থা। বই পড়ার সময় পাই না। তবে একটু আধটু বাংলায় লেখা শুরু করেছি। সময় পেলে আসবেন – http://www.vanderloost.blogspot.com – আমার বাংলা ব্লগ।
LikeLike
ধন্যবাদ বোন।
আপনার লিঙ্ক থেকে ঘুরে এলাম। বেশ তো, লিখুন। সময় নষ্ট করবেন না।
ব্লগসপ্ট এ কমেন্ট করা কষ্টকর কাজ।
এগিয়ে চলুন, আছি সাথে।
শুভেচ্ছা।
LikeLike
উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ সাহাদাত ভাই।
LikeLike
আমরা একটি বাংলা ব্লগ। এখানে আসার নিমন্ত্রণ রেখে গেলাম।
LikeLike